Trilochan Shahito Vubon - ত্রিলোচন সাহিত্য ভুবন v

★#আত্মকেন্দ্রিক #বাঁচা★ -:#প্রাবন্ধিক #তন্ময় #সিংহ #রায় :-ভাপা ইলিশ অথবা মাটন বিরিয়ানির গন্ধে আমাদের লালারস ক্ষরিত হয় কিন্তু দুর্নীতির গন্ধ খুব সহজেই আমরা উপেক্ষা করি কারণ জীবন একটাই। ভগৎ সিং আর ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানের বীজ বুনে সমাজে নিজেকে মহৎ প্রমাণ করে বেড়াবো কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবো মূক ও বধির রূপে, সুযোগ পেলে চুপিচুপি কমেই ছেড়ে দেবো মনুষ্যত্বটাও। সমাজটা কোমায় যায় যাক, পরিবারসহ নিজেরা ফার্স্ট ক্লাস এসিতে একবার হলেও কাশ্মীরে যাবো। দিনের শুরুতে চায়ের পেয়ালায় সুখচুম্বনসহ খবরের পাতায় অসামাজিক বিশ্লেষণে চোখ রাখবো আর ব্যক্তিত্বপপূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপিত আস্ত শরীরে কৃত্রিম হুঙ্কারে সিংহকেও হার মানাবো... "কি হচ্ছে মশাই এসব, ছি! ছি! ছি!... এদের মেরে ফেলা উচিৎ, জেল হওয়া উচিৎ... সমাজটা শেষ হয়ে গেলো।" গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাবে মনুষ্যত্ব শুকিয়ে কখন যে আমসত্ত্বে পরিণত হয়েছে তা ঠিক বোঝা যায়নি। মাতঙ্গিনী হাজরায় অনুপ্রাণিত মন সংখ্যায় কমে হু হু করে নিলামে দাম চড়ছে ক্যাটরিনার সৌন্দর্য। ঈর্ষ্বা আর হিংসার রোষানলে সমাজে জ্বলছে দাবানলের আগুন, সে জীবন্ত চিত্র আমাদের যন্ত্রণা দেয়না কারণ আমরা আত্মকেন্দ্রিক নির্লজ্জ বুদ্ধিজীবীর দল সর্বদাই নানাভাবে আমাদের সুখ খুঁজতেই ব্যস্ত। শুধু নিজের পরিবার নয়, যে মন দিয়ে নি:স্বার্থ ভালোবাসতে জানে, তার কাছে গোটা সমাজটাই তার পরিবার হওয়া উচিৎ কিন্তু নি:স্বার্থ ভালোবাসা আজ অণুজীবের ভূমিকায় অবতীর্ণ। সব মিলিয়ে অন্তরের সুপ্তাবস্থায় যত্নে সাজানো লাইনটা এরুপ, 'শেষ হবো তবুও পরিবর্তন হবোনা, শুধু তুমি আমি আর আমার পরিবার।' ভাবলেও বিষ্ময়ে হতবাক হতে হয়...আজ নেতাজী ও ক্ষুদিরামের অবস্থান ইরেজারের ঠিক নিচেই।
হ্যায় প্রেম
মেহেদী হাসান বাবু
তোমরা ছুয়োনা আর আমায় হে আবেগ,,
জোড় হাত করি মিনতি,,
এই বিরহ হয় যেন জীবনের শেষ নিয়তী
 জেগে ওঠো হে বিবেক
প্রেমের দহনে জ্বলছে সর্বাঙ্গে,,
ভালোবাসার আগুনে আগুনে ছাই
 স্মৃতির চিতায় শুয়ে দেখি স্বপ্নের সঙ্গী নাই,,
শুধু আমি বিরহের গাঙ্গে
আহত হৃদয়ের নিহত চিত্ত
 হলোনা প্রেমের ঠাই,,
প্রেম হুতাশন বিনা সাধের সঙ্গী নাই
 শুধু আমি যাতনার ভৃত্য
জেনে শুনে হাসিমুখে করেছি বিষপান
 ভালোবাসার প্রভাবে হতো আমৃত,,
আজ আমি প্রায়শই মৃত
 এ হলো আমার প্রেমের অবসান


Tumpa Datta

একলা পথে আমি
একলা পথে চলছি আমি অজানাপথে
 জানিনা কাউকে পাবো কিনা এই পথে।
 জানিনা কত পথ চলতে হবে একা একা
 কেউ কি আসবেনা
 আমার এই পথে
 পাশে থেকে হাটবেনা আমার সাথে
 কেউ কি বলবেনা
 চলো না দুই জনে হারিয়ে যায়
 এই পথ ধরে।।

নষ্ট মেয়ের নষ্ট ই মেল
- শর্মিষ্ঠা
 প্রাণের হারু,
খুব জরুরী খবর জানাতে এই আর্জেন্ট ই মেল। আমি গত তিনমাস পিরিয়ড মিস করেছি। গতকাল ঘরে প্রেগকালার টেস্ট করেছি। পজিটিভ। আজ ডাক্তারের কাছে গিয়ে কনফার্ম হব।
 তোকে এটাও জানাতে চাই যে, গত খ্রিস্টমাস ইভের রাত আমি আমার এপার্টমেন্টে আমার পঞ্চপান্ডবের সঙ্গে চুড়ান্ত যথেচ্ছাচারে কাটিয়েছি। পাঁচ পাঁচটি ভরাট যৌবন আমার চরণে পূজার অর্ঘের মত নিবেদিত হয়েছে আরাধ্যার প্রতি মুগ্ধতায়। তোর বাড়ির কারুর মত কেলেকুচ্ছিৎ বলে নাক সিঁটকোয় নি তারা। আর একজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে শুকনো মুখে মাথা নীচু করে দূরে সরে গেছে আমারই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে। যে ভাবে একদিন আমাকে বাড়িতে একা পেয়ে তোর ভগিনীপতি গায়ের জোরে আমাকে কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলেছিল, এ দেশের মানুষগুলো বোধকরি স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। আর সে দিনের পর আমার শরীরটাকে প্রতি দিনে রাতে যখন খুশি তুই আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিঁড়ে খেয়েছিস। নেশার ঘোরে একদিন আমাকে বহুগামিনী বেশ্যা বলতে বাধে নি তোর।
 হারু, তুই আমার সেই খিচুড়ির স্কুলের বন্ধু। সেই তখন থেকে যত রাজ্যের ভাললাগা, খারাপলাগা সব আমি আগে তোর সঙ্গে শেয়ার করেছি। রাস্তায় কোনও লোক কোনওদিন অসভ্যতা করেছে জানতে পারলে তুই চেপে যেতে বলেছিস। আমিও নতুন করে হ্যারাসমেন্টের ভয়ে সব চেপে গেছি। দোষের মধ্যে এইচ এসের পর আমি ইঞ্জিনিয়ারিং য়ে চান্স পেয়ে তোর মত লো প্রোফাইলকে পাত্তা না দিয়ে দেবজিৎকে ফিট করে ফেলি। সেই দেবজিৎ আমার ভার্জিনিটি নিয়ে আমায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়। আমার তখন পাগলের মত অবস্থা। কতকটা যেন দয়া করেই তুই আমার মত 'কেলেকিষ্টি মেয়েছেলে' কে বিয়ে করলি আমার বাবার কাছ থেকে প্রচুর নিয়ে। আবার মোটা মাইনের চাকরি পাওয়া মাত্র আমি, সেই কেলেকিষ্টি, একেবারে ও বাড়ির মেয়ে হয়ে গেলাম।
 হারু, গত দু মাস হল আমি তোকে ছেড়ে, দেশ ছেড়ে কোম্পানীর প্রোজেক্টের কাজে এই দূর বিদেশে। প্রথমবার মিস করার সময় দেশেই ছিলাম। এ কথা শুনে পাছে আটকাস, তাই চেপে গিয়েছিলাম।
 এ কথা হেয়াটসঅ্যাপে বললেও হত। এত বড় মেল অন্য কিছু বলতে।
 হারু, আমি আর এখান থেকে ফিরতে চাই না। স্বর্গ হোক বা নরক, বাকি জীবনটা এখানেই থেকে যেতে চাই। আমার রোজগারে কেনা নতুন ফ্ল্যাটটা তো তোর মায়ের নামে দলিল করে দিয়ে এসেছি। পেটেরটাকে যদি ক্লেম করিস, এক কথায় তোকে দিয়ে দেবো। (অবশ্য সে যদি আমার মত কালো মেয়ে হয়, কি হবে জানা নেই।) টাকার যখন যা দরকার বলিস, পাঠাবো। আর সম্পর্ক থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইলে কোর্টে যাস। মিউচুয়াল ডিভোর্স দিয়েই দেবো।
 সাবধানে থাকিস, তোর মা কে সুখবরটা দিয়ে দিস। আমার জন্য চিন্তা করে বিশেষ লাভ নেই। প্রমিস করছি এই অবস্থায় এ ক মাস কারুর সঙ্গে আর দুষ্টুমি করব না।
 ইতি
 তোর খুশি
টুম্পা দত্ত
গেথেছি নিজের হাতে বকুল ফুলের মালা তোমার জন্য,তুমি পড়বেতো মালা আমার হাতে।কখন থেকে অপেক্ষা করছি তোমার জন্যে মালা গেথে,তুমি আসছোনা কেন মালা যে শুকিয়ে গেল তোমারি অপেক্ষায় থেকে।তুমি কি আসবেনা পড়বেনা এই মালা,আমি কি অপেক্ষায় থাকবো হাতে নিয়ে মালা।।


সুমনা পাল > ‎:ত্রিলোচন সাহিত্য ভুবন:

(তন্দ্রাকাশ)——
-মেঘ দেখবা?
-না।
-আকাশ দেখবো চলো,তুমি আর আমি।
 চলো তোমাকে ছাদে নিয়ে যাই!
-না আমি ছাদে যাবো না।
 কোনোদিন না।
-কেনো?
-আমার ভালো লাগে না।
-আমার সাথেও যাবেনা?
-আমি একটু আকাশ দেখতে
 চেয়েছিলাম সেদিন।খুব যত্ন করে
 বলেছিলাম, আমাকে একটু আকাশ
 দেখাবা তন্দ্রা?
-আকাশে অনেক মেঘ আছে তাইনা
 দূতি?
-কে বলেছে তোমাকে?
-তন্দ্রা বলেছিলো।
-তন্দ্রা কে?
-কাছের কেও ছিলো।
-কেমন কাছের?
-আমার ভেতরটা ছিলো তন্দ্রা,আজও
 আছে,সারাজীবন থাকবে।
-ও তন্দ্রা তোমার ভালোবাসার মানুষ?
আর কি বলেছে তোমাকে?
-আমি কোনোদিন আকাশ
 ভালোবাসতাম না,বৃষ্টি ছুঁয়ে
 দেখিনি কখনও।চাঁদ উঠলে ঘরে বসে
 থাকতাম।কেনো জানি এসব ভালো
 লাগেনা আমার।আমি বরং ঘরের
 কোনে তন্দ্রার ছবি আঁকতাম। তন্দ্রাই
 ছিলো আমার আকাশ,পৃথিবী।
 আমার মনে হতো ওর মুখটাই প্রকৃতি।
 আমার সমস্ত ভালোলাগার নিখুঁত সৃষ্টি
 তন্দ্রা।
-তুমি ওকে অনেক ভালোবাসো?
-অনেক ভালোবাসতাম এখন আরো
 বেশি ভালোবাসি,পাগলের মতো।
-তোমার চশমাটা অনেক সুন্দর।
-তন্দ্রার দেওয়া।
-তোমার তন্দ্রা কোথায়?দেখাবে
 আমাকে?
-না।
-ওনার বাসার নাম্বার টা দাও।
-দিলেও যেতে পারবে না।
-কোথায় বলো একবার?
-ওর বাড়ি আকাশে।আমিও চলে যাবো
 ওর বাড়িতে।তন্দ্রা অপেক্ষা করছে
 আমার জন্য।
-এসব কি বলছো পাগলের মতো?
-পাগলের কষ্ট বুঝো দূতি?
পাগলদের অনেক কষ্ট জানো?কেও বুঝে
 না।
 সেদিন পাগলামী করেছিলাম তন্দ্রার
 সাথে।ওর মনটা ভীষন খারাপ ছিলো।
 ওর ফ্রেন্ডগুলো প্রায়ই আমাকে নিয়ে
 আজেবাজে কথা বলতো।ও আমাকে
 ধরে খুব কাঁদতো,খুব কাঁদতো।আমাকে
 বলতো:জয় তুমি এমন কেনো?কেনো তুমি
 আকাশ ভালোবাসো না?বৃষ্টি ছঁও
 না,চাঁদ দেখো না?
জানো সবাই আমার সামনে তোমাকে
 পাগল বলে।
-জানো দূতি আমার পাগলী তন্দ্রাটা
 বুঝতেই চাইতো না ওই আমার আকাশ।
 কত্তবেশি ভালোবাসি এই
 আকাশটাকে।
 আচ্ছা মানুষের তো মাথার উপর একটাই
 আকাশ,আর সেই আকাশ যদি আমি
 ভালোবাসার মানুষটিকে ভাবি
 ক্ষতি কি তাতে বলোতো?সবাইকে
 কি শুধু মাথার উপরের আকাশটাকেই
 ভালোবাসতে হবে প্রকৃতি ভেবে!
আমি না হয় এক পৃথিবীর মানুষকেই
 আকাশ ভাববো।আদর করে
 ভালোবাসবো।তন্দ্রা পাগলীটা শুধু
 অভিমান করতো ওর ফ্রেন্ডদের কথায়।
 একদিন কলেজ শেষে বাসাই এসে সে
 কি কান্না,ফোন দিয়ে বলছে:তুমি
 এখনি ছাদে আসো বৃষ্টিতে ভিজো,
একটু আকাশ দেখো।
 আমি সবসময় আকাশ দেখি, আমার
 তন্দ্রাকাশ।পাগলীটা বুঝে না।শুধু জেদ
 করে উল্লুক সব মানুষের কথায়।
-তারপর তুমি বৃষ্টিতে ভিজেছো?
-তন্দ্রা খুব কাঁদছিল তখন,চোখের জল
 মাটিতে পড়তে দেইনি,ঐ চোখের
 জলে বৃষ্টি ভেবে ভিজেছিলাম আমি।
 অনেক দিন রাগ করে ছিলো, কথা
 বলেনি।আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল ওকে
 ছাড়া।আমি ঘরে বসে সারাক্ষন ওর
 ছবি এঁকেছি,চল্লিশখানা ছবি এঁকেছি
 আমার তন্দ্রাবতীর।
 সোমবার সকাল।ভাবলাম আজ তন্দ্রার
 কাছে যাবো।ভূলটা হয়তো আমারি।
 আমি আসলেই হয়তো কেমন!!
-তন্দ্রা বাগানে বসে আছে,মনটা
 খারাপ।
 আমি যেতেই ও একটুও অবাক ছিলো
 না,এই ক'দিন কিছুই হয়নি এমন মনে হচ্ছে।
 আমাকে আস্তে করে বলছে আমাকে
 একটু বুকে নিবা জয়?আমি একটু আকাশ
 দেখবো তোমার বুকে শুয়ে।
 আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম ও
 কি বলছে এসব!!
আমি বল্লাম ছাদে চলো আজ আমিও
 আকাশ দেখবো।
 তন্দ্রা আর ওর মধ্যেই ছিলো না
 সেদিন,আমার তন্দ্রাকাশে সেদিন
 কালো মেঘ ছিলো।
 আমরা ছাদে গেলাম আকাশ দেখতে।
 তখন সন্ধ্যা সাতটার মতো হবে।
 ছাদের সাইডে গিয়ে দাঁড়ালাম।
 তন্দ্রা বল্লো ঐ যে দেখো আকাশ
"""দেখতে পাচ্ছো?চাঁদটা দেখো কত
 সুন্দর।
 আচ্ছা জয় আকাশে কি করে যেতে হয়
 জানো?
-আমি জানতে চাই না।শুধু জানি আমি
 তোমাকে অনেক ভালোবাসি তন্দ্রা।
 আমাকে একটা চশমা দিলো তন্দ্রা,
চশমা পড়লে নাকি আমাকে বেশি
 ভালো লাগে।ওর হাতেই চশমাটা
 পড়লাম।
-ও এবার বলছে,ঐ যে দেখো আকাশে
 একটা বাড়ি,অনেক সুন্দর তাইনা জয়?
-আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না,সব কেমন
 আবছা লাগছিল।সবকিছু কেমন নিস্তব্ধ।
 হঠাৎ,
আমি চশমাটা খুলতেই দেখি ও আর
 নেই,
আমার আকাশটা মাটিতে পড়ে গেছে
,আমি ওকে বাঁচাতে পারিনি দূতি!
আমি আর কোনোদিন আকাশ দেখবো
 না,ঐ দূরের আকাশটা আমার নিজের
 তৈরি আকাশটাকে ছিনিয়ে
 নিয়েছে।
 সেদিন তো পা পিছলে আমার পরার
 কথা ছিলো,মাথার উপরের আকাশটা
 বড্ড খারাপ।বড্ডবেশি নির্দয়।
 আকাশ আমি ঘেন্যা করি
 তোমাকে,কোনোদিন আমি
 তোমায় ভালোবাসবো না।
——ফিরে এসো তন্দ্রা,
আমার আকাশে একটা সুন্দর বাড়ি
 বানাবো তোমার জন্য।

ধরণী, দ্বিধা হও
-শর্মিষ্ঠা
 উপদ্রুত অঞ্চলের যে কোনও মানুষই উগ্রবাদী। রাত থাকতে নদীর তীরে প্রাতঃকৃত্য সারতে আসা এই তরুণীও। দেশের স্বার্থে কৃতকর্মের শাস্তি তাকে পেতেই হবে।
"পাকড়ো উসসে। বানাও।" পুলিশ অফিসার অনিমেষ মজুমদারের নির্দেশে চারজন পুলিশ মেয়েটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
 অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এই অঞ্চল বর্ষাকালে অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল। গত রাতে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবু নারীমাংসের লোভ অজেয়। চারজন পুলিশ মেয়েটিকে এনে ফেলে কুমীরের হাঁ এর মত এই পাথরের গর্তে।
 ধর্ষণের সময় মেয়েমানুষ চিৎকার করবে, কাকুতিমিনতি করবে, প্রতিরোধের চেষ্টা করবে, মুখে ভয়ের অনুভূতি ফুটবে, তবে না ধর্ষণ উপভোগ্য হবে। এই মেয়েটি সম্পূর্ণ নীরব, ভাবলেশহীন। চোখদুটি অভিব্যক্তিহীন।
 এক এক করে চারজন। কাজ সেরে তারা যখন পোশাক পরছে, মজুমদারও চাইলেন একটু স্বাদ পেতে। কাজ সেরে প্রমাণ লোপ করতে মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে খুন। এরপর মুক্ত হয়ে পালাবেন, চরম মুহূর্তে হড়কা বান এসে সৃষ্টি ভাসিয়ে নিয়ে গেল। ভেসে যেতে যেতে একটা পাথরের খাঁজে আটকে বেঁচে গেলেন তিনি।
 কে জানে কতক্ষণ সংজ্ঞা হারিয়ে পড়েছিলেন। জ্ঞান ফিরল অনেক কন্ঠের কলরবে। থানা থেকে ওঁদের খুঁজতে খুঁজতে এসে পড়েছেন সহকর্মীরা। মেয়ের খোঁজে সমস্ত গ্রাম ভেঙে পড়েছে নদীর তীরে। গন্ধ পেয়ে ভীড় জমিয়েছেলাশে মিডিয়া। গতরাতের চারজন সহকারী নিখোঁজ। মূক বধির মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীর লাশের শরীর থেকে ধর্ষণের সব চিহ্ন মুছে নিয়েছে দুরন্ত স্রোতস্বিনী। ঘন শৈবালদামে ঢেকে দিয়েছে তার লজ্জা।
 কিন্তু, তার বিস্ফারিত দুই চোখ, গলায় আঙুলের নীল দাগ সমবেত জনতার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে খুনের স্পষ্ট প্রমাণ। আর......
 ...... এত এত জোড়া চোখের সামনে........ তিনি...... সম্পূর্ণ রিক্ত বিবসন।